মোঃ আব্দুল লতিফ সরকারঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে এক প্রসূতির রাস্তায় সন্তান প্রসব করার অভিযোগ উঠেছে। ডেলিভারি কক্ষ তালাবদ্ধ থাকা এবং প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. রঞ্জনা বেগম উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দিগর এলাকার বাসিন্দা।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হলে রঞ্জনা বেগমকে দ্রুত রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক প্রদর্শনের পর তাঁকে ওপরতলার ডেলিভারি পয়েন্টে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ এবং সেটি তালাবদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি।
প্রসব বেদনায় রোগী মেঝেতে ছটফট করতে থাকলেও দায়িত্বে থাকা কাউকে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর একজন নার্স এসে রোগীকে দেখে কোনো ধরনের চিকিৎসা না দিয়েই চলে যান বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
রোগীর স্বামী মো. আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাদের কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। আমরা এর বিচার চাই।”
অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রোগীকে সিএনজিযোগে অন্যত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বজনেরা। বগুড়ার শেরপুরের দিকে যাওয়ার পথেই সিএনজিতে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি।
অভিযোগের বিষয়ে মিডওয়াইফ রুমা মহন্ত বলেন, “বিকালে আমার ডিউটি ছিল না। সকালে ডিউটিতে ছিলাম। যার ডিউটি ছিল তিনি ছুটিতে থাকায় আমি রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে যেতে বলেছিলাম। পরে আমি এসে রোগীকে দুইবার দেখি। তাঁকে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করতে বলা হয়েছিল।” তবে ডেলিভারি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ থাকা এবং শুরুতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আফম ওবায়দুল ইসলাম ঘটনাটিকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মিডওয়াইফের সেখানে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এই ঘটনার সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে জন্য রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে রোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে চাপ ও অনুরোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা এবং অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

