সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নানাবাড়ি থেকে ফেরার আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মা ও তার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামসহ পুরো এলাকায়।
নিহতরা হলেন—কামারখন্দ উপজেলার নুরনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং তার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান আরিয়ান।
জানা যায়, শিশু আরিয়ান নানাবাড়ি যাওয়ার বায়না ধরলে বাবা-মা তাকে নিয়ে সলঙ্গার নলকা এলাকার তিন নান্দিনা দক্ষিণপাড়ায় নানা নজরুল ইসলামের বাড়িতে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তারা নিজ বাড়ি কামারখন্দের নুরনগরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদের বহনকারী অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশু আরিয়ান প্রাণ হারান। এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শিশুটির বাবা, তবে তিনিসহ আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে চলছে কান্নার রোল। শোকে মুহ্যমান স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অকাল প্রয়াত ছোট্ট আরিয়ানের ছবি বুকে জড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তার বাবা। তার এই বুকফাটা আর্তনাদ ও শোক সইতে পারছেন না স্থানীয়রা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আল্লাহ আমার বুকটাই খালি করে দিলেন। আমি সবকিছু হারালাম। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, তা যার সন্তান হারিয়েছে সে ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না।”
একটি সুখের পারিবারিক ভ্রমণ যে এভাবে চিরবিদায়ের যাত্রায় পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকাটিতে শোকের মাতম চলছে।

