খালিদ হাসান,চলনবিল প্রতিনিধিঃ শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত চলনবিল এলাকায় প্রতিবছরই বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে এই ফুল চাষে। চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। অপরূপ এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন সূর্যমুখীর বাগানে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, তাড়াশ, কাজীপুর, উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় এ বছর প্রায় ২৭০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর, বেলকুচি ও উল্লাপাড়া উপজেলায় চাষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। বীজ বপনের প্রায় তিন মাস পর ফসল সংগ্রহ করা যায় এবং হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী চাষে শুরু থেকেই জেলার কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ ফসল থেকে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, গত দুই বছর ধরে তিনি সূর্যমুখী ফুল চাষ করছেন। এ বছরও এক বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তার ক্ষেত এখন ফুলে ফুলে ভরা। তিনি আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গত বছরের চেয়েও বেশি লাভ হবে।
এদিকে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের কৃষক ইউসুফ আলী জানান, যমুনার চরাঞ্চলের অনেক জমি বছরের বড় একটি সময় পতিত থাকে। তিনি এবার চার বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় চার হাজার টাকা খরচ করে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।
কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে ধান, গম ও ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ লাভ পাননি। গত পাঁচ বছর ধরে ফুল চাষ করে ভালো ফল পাচ্ছেন। ধান-গমের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আগামীতেও এ চাষ অব্যাহত রাখবেন বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর মো. আহসান শহীদ সরকার বলেন, এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮০ হেক্টর, সেখানে আবাদ হয়েছে ২৭০ হেক্টর জমিতে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে হাঁস-মুরগির খাদ্য ও ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। এতে থাকা লিনোলিক এসিড হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। সূর্যমুখী চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

