রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অটোরিকশাচালক কছিম উদ্দিন (৪৮) হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই বছর তিন মাস পর ঘাতক চক্রকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—অটোরিকশা ছিনতাইয়ের আড়ালে প্রকৃতপক্ষে পারিবারিক শত্রুতাই ছিল এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতেরই আপন ছোট ভাই আব্দুল মালেক (৪৫)। এ ঘটনায় মালেক ও তাঁর সহযোগী কাকলী রানী (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) নিমগাছি এলাকা থেকে প্রধান আসামি আব্দুল মালেককে এবং পরদিন শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) একই এলাকা থেকে কাকলী রানীকে আটক করে রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত কাকলী রানী গত ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
তদন্তে যা উঠে এসেছে:
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই রাতে নিমগাছি এলাকায় কছিম উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেসময় ঘটনাটিকে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মামলা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তবে পুলিশ টানা দুই বছর তদন্ত চালিয়ে বের করে আনে আসল রহস্য।
পারিবারিক দীর্ঘদিনের কোন্দলের জের ধরে ছোট ভাই মালেক তাঁর বড় ভাই কছিমকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার রাতে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাকলী রানীর মাধ্যমে কছিম উদ্দিনকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনা হয়। এরপর মালেক ও তাঁর ভাড়াটে সহযোগীরা মিলে কছিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন এবং ঘটনাটি অটোরিকশা/ভ্যান ছিনতাই হিসেবে চালিয়ে দিতে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যান।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, “এটি নিছক অটোরিকশা ছিনতাই ছিল না। পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই মালেক ভাড়াটে খুনিদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মালেক আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

