300
ঢাকাFriday , 25 July 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. ত্বথ্য প্রযুক্তি
  11. দুর্ঘটনা
  12. ধর্ম
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমপি হওয়ার তালিকায় হারিয়ে গেছেন রাজপথের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা

admin
July 25, 2025 10:24 am
Link Copied!

এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ

এমপি হওয়ার তালিকায় হারিয়ে গেছেন রাজপথের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা!

কোনো সংসদীয় আসন খালি হলে সবাই হামলে পড়ছেন দলীয় মনোনয়ন পেতে। এমপি হওয়ার তালিকায় হারিয়ে গেছেন রাজপথের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মহান জাতীয় সংসদ পরিণত হবে রাজনীতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা না থাকা ব্যবসায়ীদের ক্লাবে,যারা শুধু লাভ-ক্ষতির হিসাব বোঝেন। সংসদের অধিবেশনে নতুন নতুন আইনের পরিবর্তে তৈরি করেন ব্যাবসায়িক নীতিমালা। সুতরাং সংসদ সদস্য পদকে এখনই অলাভজনক পদ বা সেবামূলক পদ হিসেবে গড়ে না তুললে দেশের সবাই এমপি হতে চাইবে। ইতোমধ্যে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যানার,পোস্টার আর ফেস্টুনে অপরূপ সেজেছে নির্বাচনী এলাকা। সারা বছর জনবিচ্ছিন্ন নেতারাও এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন সেবা ও নানা সহযোগিতা। এলাকার সামাজিক অনুষ্ঠানসহ মসজিদ ও মন্দিরে গিয়ে লোক দেখানো দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে চলছেন। অনলাইন ও পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অনেককে ইতোমধ্যে এমপি বানিয়ে ফেলেছে। তবে জনগণের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সবাই কেন এমপি হতে চাইছেন? সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী সরাসরি ৩০০ জন এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বাকি ৫০টি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিশ্চিত লাভের আশায় প্রায় সবাই দৌড়াচ্ছেন । এতে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় সবাই এমপি হতে চান ও জনসেবা ও দেশের জন্য কাজ করতে চান। তাহলে বিষয়টা কি এমন যে, এমপি না হয়ে জনসেবা বা দেশের জন্য কাজ করা যায় না? নাকি এমপি ছাড়া অন্য কেউ জনসেবা বা দেশের জন্য কাজ করেন না? সংসদ সদস্যের সংখ্যা দেশের মোট জনসেবকের তুলনায় অতি সামান্য। এক্ষেত্রে যারা এমপি নন, তারা কীভাবে জনসেবা করছেন? প্রত্যেকেই তার নিজের জায়গা থেকে জনসেবা করতে পারেন। প্রত্যেকে যদি নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজনের ও পাড়াপ্রতিবেশীর সেবাটুকুও ঠিকমতো করেন, তাহলেই তো দেশ বদলে যাওয়ার কথা!

আগে শুধু রাজনীতিবিদরা এমপি হতে চাইতেন দেশের সেবা করার জন্য। নিজেদের পকেটের পয়সা শেষ হলে বাপ-দাদার জমিজমা বিক্রি করে সবাই রাজনীতি করতেন এবং রাজনীতিকে তারা সেবামূলক কাজ মনে করতেন। একানব্বই সাল থেকে এ দেশের রাজনীতিতে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রবেশ শুরু হয়। ওই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধার্থে ব্যাবসায়ীদের ঢালাওভাবে মনোনয়ন প্রদান করে এবং তারা নির্বাচনে জয়লাভ করে মহান জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে যান। তারপর থেকেই ব্যবসায়ীদের দখলে মহান জাতীয় সংসদের বেশির ভাগ সদস্যপদ। এমপি মানে মেম্বার অব পার্লামেন্ট, বাংলায় সংসদ সদস্য,যার মূল কাজ আইন প্রণয়ন করা। সুতরাং আইনকানুন বোঝেন বা বোঝার মতো জ্ঞাণ ও কাণ্ডজ্ঞাণ আছে, এমন ব্যক্তিরাই এমপি হবেন-এটিই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এমপি হওয়ার জন্য তার আইনকানুন বোঝা তো দূরে থাক, নুন্যতম পড়ালেখা জানাও শর্ত নয়। বয়সের সীমারেখা থাকলেও শিক্ষাদীক্ষা একজন নাগরিকের সংসদ সদস্য হওয়ার পথে কোনো বাধা নয়, শর্ত নয়। সেক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি বহুদিন ধরেই একাডেমিক পরিসরে আছে সেটি হলো, পড়ালেখা না জানা মানুষ যখন আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে যান; বিশেষ করে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রী আইনের খসড়া (বিল) সংসদে উত্থাপনের পরে স্পিকার যখন সেটি পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠান, সেখানে ওই এমপিরা কী ভূমিকা পালন করতে পারেন? ওই বিলের ওপরে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের পর বিলের ওপরে যে আলোচনা হয়, সেখানেই-বা তারা কী ভূমিকা রাখতে পারেন? তাদের কাজ কি শুধু ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলা?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে যখন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, তখন সংবিধান প্রণেতারা এমপি হওয়ার শর্তের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি কেন রাখেননি, সেটি বোঝা যায়। কারণ তখন দেশে শিক্ষার হার ছিল যথেষ্ট কম এবং ওই সময়ে যারা রাজনীতি করতেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন। সেখানে তাদের ব্যক্তি ইমেজ, মানুষের জন্য কাজ করা, তাদের বিপদ-আপদে পাশে থাকা, সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকা, সর্বোপরি পারিবারিক পরিচিতিই ছিল মুখ্য। কিন্তু গত অর্ধশতকে চিত্র পালটে গেছে।

সুতরাং পরিবর্তনের সূচনা এখনই করা দরকার। সংবিধান সংশোধন করে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একাডেমিক পরিসরে তো বটেই, রাজনীতিবিদদের মধ্যে, এমনকি সংসদেও আলোচনার সূত্রপাত হওয়া দরকার। রাজনীতিবিদরাই যেহেতু দেশ পরিচালনার মূল দায়িত্বটি পালন করেন, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় না হলেও অন্তত সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি শর্ত সংবিধানে থাকা উচিত বলে মনে হয়। রাজনীতিতে নেতার অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। কাউকে না কাউকে তো নেতা হতেই হবে। কিন্তু সে নেতা হওয়ার প্রক্রিয়াটি কি খুব সহজ? আমাদের এই উপমহাদেশের রাজনীতির দিকে চোখ ফেরালেই এ সত্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এযাবত যারা নেতা হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন, তারা গাছে পোস্টার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে বা নেতার পেছনে দাঁড়িয়ে টিভি-ক্যামেরায় মস্তক দেখিয়ে ওই মর্যাদার আসনে আসীন হননি। এজন্য তাদেরকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, জীবনের সোনালী সময়কে ব্যয় করতে হয়েছে। বাস করতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তারা কেউই হঠ্যাৎ করে নেতা বনে যাননি। রাজনীতির মাঠে পদচারণার শুরুতে তারা কর্মীই ছিলেন এবং নানা ঘাত প্রতিঘাত ও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নিজেদেরকে বিশ্ব দরবারে উজ্জল করে গেছেন।

মহাত্মা গান্ধী পেশাজীবনের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের দুর্দশা দেখে প্রতিবাদী ভূমিকায় নেমেছিলেন। সে কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। এমনকি শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়েছিল। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তরুণ বয়সে জমিদারের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে আসামে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঠিক তেমনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের বাতিঘর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাছে পোস্টার ঝুলিয়ে কিংবা বড়নেতার পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে নেতা হননি। এজন্য তাকে পার হতে হয়েছে অনেক দুর্গম পথ। কোনো কোনো সময় মৃত্যু তার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। কিন্তু তিনি তার জীবনের ব্রত থেকে সরে যাননি এতটুকু। উপরন্ত দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাতির স্বার্থে দেশের হাল ধরেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে নেতৃত্বে আসীন হলেও তিনি কখনো নিজেকে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি বরং নিজেকে কর্মী ও জনগণের সেবক হিসেবে পরিচয় বহন করেছেন আর বিএনপিকে তৃণমূলে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজেকে কর্মীর কাতারে সামিল রেখেছেন। এতে কর্মীর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে নেতা আর নেতার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে জনমত। অথচ আজ কষ্ট করে নেতার পর্যায়ে যেতে কেউ আগ্রহী নন। তারা নেতা হতে চান ঠিকই, তবে আপন কর্মের ফলে নয়। দুঃখের বিষয় সেই রাজনীতি আর রাজনীতিকের হাতে নেই, রাজনীতি এখন ব্যবসায়ী ও আমলাদের কাছে চলে গেছে। একটি আসন থেকে এক জনের বেশি ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। মনোনয়ন না পেয়ে রাতারাতি গিরগিটির মতো রং পালটে দলের বিরুদ্ধ আচরণ করতেও কুণ্ঠিত হন না অনেক বসন্তের কোকিল সুবিধাবাদী নেতা। এমপি হওয়াটাই শেষ কথা নয়। এমপি না হয়েও জনসেবা করা যায়, মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়।

নেলসন ম্যান্ডেলা মাঝেমধ্যে বলতেন, ‘সুসময়ে নেপথ্যে থেকে অন্যদের সুযোগ করে দেওয়া উত্তম এবং দুঃসময়ে সামনে এসে নেতৃত্বের হাল ধরলে জনগণের বেশি প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করা যায়।’ পৃথিবীতে সবকিছুই শিখতে হয়,জানতে হয় এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুশীলন করতে হয়। রাজনীতিও আকৈশোর সচেতনভাবে মানসিক ও ব্যাবহারিকভাবে অর্থাৎ বিশ্বাসে, কর্মে, আচরণে, অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হয়। একজন রাজনীতিবিদকে জনদরদে,জনপ্রিয়তায়, উপচিকীর্ষার উপায় ও পন্থা উদ্ভাবনে মনোযোগী,দক্ষ,নিপুণ,সুরুচিপূর্ণ, সময়সচেতন,দেশপ্রেমী ও মানবসেবী হতে হয়।

রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষ ও সমাজসেবার ব্রত। রাজনীতি বৃহত্তর পরিসরে মহত্তর কাজ। রাজনীতি হলো ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, দেশ তথা বিশ্বের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। আমরা নতুন করে বাঁচতে শিখি। পুরোনো ও পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণাকে পেছনে ফেলে নতুন আলোর পথে অগ্রসর হই।

-এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ (সাংবাদিক)
তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি।

সদস্য সচিব,মিডিয়া সেল
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

Design & Developed by BD IT HOST